Breaking News

হিজড়া ও যৌন বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য বিষয়ক গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে পরামর্শ সভা

01বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বিএসডবি¬উএস) বাংলাদেশে হিজড়া ও যৌন বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, এইচআইভি প্রতিরোধ, জীবনমান উন্নয়ন ও মানবাধিকার বিষয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বিএসডবি¬উএস বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এবং দেশি-বিদেশী বিভিন্ন দাতা সংস্থা সমূহের সহযোগিতা নিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় বিএসডবি-উএস, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন হিউম্যান রাইটস ইন ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক মত বিনিময় সভা বুধবার সকাল ১০টা খুলনার একটি অভিযাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

যা উক্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষা কল্পে পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। একুশে টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক অখিল পোদ্দার সভার প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের এডভোকেসী অফিসার আলিমুল হাসান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ ও পরিচালনায় ছিলেন সংগঠনের সহকারি ম্যানেজার ট্রেনিং ও কাউন্সেলিং রফিকুল ইসলাম রয়েল। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন স্থানীয় এলজিবিটি সংগঠন ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আবুল হোসেন।

সভায় বলা হয়, হিজড়া ও যৌন বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠির মৌলিক মানবাধিকার ও যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে কার্যকর ও সহায়ক সামাজিক, নীতি ও আইনি পরিবেশ তৈরীর লক্ষে গণমাধ্যম কর্মীরা জন সাধারণকে প্রকৃত ধারণা দিতে পারে। শিক্ষা,চিকিৎসা সেবা এবংচাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে হিজড়া জনগোষ্ঠী যাতে সম-অধিকার পেতে পারেন এবং একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে,সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোটা ব্যবস্থার প্রচলন করার ব্যাপারে আলোচনায় স্থান পায়।

ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এককভাবে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন সেগুলোর সমাধান করার জন্য গণমাধ্যম কর্মীরা ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেন। পর্যালোচনা সভায় আলোচকরা বলেন, সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এলজিবিটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য চলছে এবং একই সাথে কুসংস্কারও বজায় রয়েছে যার ফলে কোন ব্যক্তির পক্ষে তাদের লৈঙ্গিক পরিচয় প্রকাশ করার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেই সাথে তাদের জন্যে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ চিকিৎসা সেবাগ্রহণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১৩ সালে ১১ নভেম্বর হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে রাস্ট্র স্বীকৃতি দেয়ার পর তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় দলিলপত্রে এখনো পৃথক স্থান পানি হিজড়া জনগোষ্ঠী। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পরও নারী ও পুরুষে বিরীন হয়েছে হিজড়া জনগোষ্ঠী।

তারা ভোটারের মধ্যে হিজড়া হিসেবে পরিচয় পায়নি। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পর হিজড়াদের জন্য প্রত্যেক সেবার ক্ষেত্রে পৃথক আলাদা জায়গাও রাখার জোর দাবী করা হয় সভায়। সভায় হিজড়া ও যৌন সংখ্যা লঘুদের বঞ্চনা, অধিকার এবং তাদের সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রস্তাব করা হয়।

এইচআইভি/এইডস’র বিষয়ে এমএসএম এবং হিজড়া জনগোষ্ঠী কি পরিমাণ ঝুকির মধ্যে আছে, তা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।

-খলিলুর রহমান সুমন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *